বড় অংকে বেড়েছে দক্ষিণ কোরীয় ও জাপানি অস্ত্র নির্মাতাদের আয়

চীন ও উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া।

চীন ও উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। এমন তথ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষাবিষয়ক একটি গবেষণা সংস্থা বলছে, ২০২৩ সালে দেশ দুটির শীর্ষ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কোম্পানির আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। খবর জাপান টুডে।

এর মধ্যে ২০২৩ সালে ১০ বিলিয়ন বা ১ হাজার কোটি ডলার আয় করেছে জাপানের শীর্ষ পাঁচ কোম্পানি, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি। এতে দেশটির সাম্প্রতিক সামরিক কর্মসূচি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে মত বিশ্লেষকদের।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি অস্ত্র উৎপাদন ও সামরিক পরিষেবা দাতা কোম্পানির সম্মিলিত আয় ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৬৩ হাজার ২০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা অস্ত্রের বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধির প্রতিফলন।

এশিয়া ও ওশেনিয়ায় অস্ত্র নির্মাণ খাতে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যেখানে আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধির নেতৃত্বে রয়েছে জাপানি ও দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলো।

তালিকার শীর্ষ ১০০ কোম্পানির মধ্যে থাকা পাঁচটি জাপানি কোম্পানির মধ্যে মিৎসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ২০২৩ সালে ৩৮৯ কোটি ডলার আয় করে শীর্ষে রয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। এরপর রয়েছে কাওয়াসাকি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, যার আয় ২০৬ কোটি ডলার, যা ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি। তৃতীয় থেকে পঞ্চম স্থানে রয়েছে ফুজিৎসু লিমিটেড, এনইসি করপোরেশন ও মিৎসুবিশি ইলেকট্রিক করপোরেশন।

এ প্রবৃদ্ধি জাপানে নতুন যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রতিফলন বলে জানিয়েছে এসআইপিআরআই। সংস্থাটি বলছে, এ পাঁচ কোম্পানির প্রতিটি সামরিকসংক্রান্ত দেশীয় ক্রয়াদেশ পেয়েছে ২০২২ সালের তুলনায় অন্তত দ্বিগুণ এবং কিছু ক্ষেত্রে চার গুণ বেশি। এ বছর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক সম্প্রসারণ কর্মসূচি হাতে নেয় জাপান।

২০২২ সালের শেষ দিকে সংশোধিত জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে জাপান পাঁচ বছরে বার্ষিক প্রতিরক্ষা ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ করার এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও প্রযুক্তি খাত উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছে। এটি চীন, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপ।

অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার চারটি কোম্পানির সম্মিলিত টার্নওভার ৩৯ শতাংশ বেড়ে ১১ বিলিয়ন বা ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার হয়েছে। এর মধ্যে হানওয়া গ্রুপ আয় করেছে ৫৭১ কোটি ডলার, যা ২০২২ সালের তুলনায় ৫২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। কোম্পানিটি দেশের বাইরেও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানিতে যুক্ত। এর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আর্টিলারি ও সাঁজোয়া যান রফতানি চুক্তি।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সামরিক ব্যয় ও অস্ত্র উৎপাদন কর্মসূচিবিষয়ক গবেষক জিয়াও লিয়াং বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলো বৈশ্বিক অস্ত্রবাজারে তাদের হিস্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছে, যার মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ সম্পর্কিত ইউরোপীয় চাহিদাও রয়েছে।’

তালিকায় থাকা একমাত্র তাইওয়ানি কোম্পানি হলো ন্যাশনাল চুং-শান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। ২০২৩ সালে কোম্পানিটির আয় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩২২ কোটি ডলার হয়েছে। তাইওয়ানের জন্য ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও রাডার তৈরির দেশীয় অর্ডার এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

অবশ্য তালিকায় সম্মিলিত অস্ত্র বিক্রি আয়ে মার্কিন কোম্পানিগুলোর পরই অবস্থান চীনের কোম্পানির। তবে দেশটির মন্থর অর্থনীতির প্রভাব দেখা যাচ্ছে প্রতিরক্ষা খাতে। ২০২৩ সালে চীনের কোম্পানিগুলো আয় করেছে ১০ হাজার ৩০০ কোটি ডলার, যা আগের তুলনায় দশমিক ৭ শতাংশ। এটি ২০১৯ সালের পর থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম খাতে চীনের সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি।

আরও